টেকনিক্যাল এস ই ও কি? What is Technical SEO ?

টেকনিক্যাল এস ই ও কেন দরকার? Why Technical SEO Important?

টেকনিক্যাল এস ই ও  Why Technical SEO Important?
Technical SEO Bangla Tutorial

টেকনিক্যাল এস ই ও  (Technical SEO) কথা শুনে ভয় মনে জেগেছে নাকি? যে এটা কি এর কাজ কি ? এটা মনে হয়ে খুব কঠিন যেহেতু টেকনিক্যাল শব্দ আছে। এটা কি এস ই ও’র নতুন ধরণ নাকি অন্য কিছু?এত ভয় পাবার কিছু নাই আমরা আজ আলোচনা করবো যে টেকনিক্যাল এস ই ও কি এটার কেন দরকার।

টেকনিক্যাল এস ই ও কি? What is Technical SEO ?

(Technical SEO) টেকনিক্যাল এস ই ও বলতে মূলত আমাদের ওয়েবসাইট এর সাথে আমাদের সার্ভার অপটিমাইজেশন এর এক ধরনের পদ্ধতি। আমাদের ওয়েবসাইট যখন সার্চ ইঞ্জিনের রোবটস Crawl করতে আসবে তখন সেটি আমাদের সাইটের পোস্ট বা পেজ কে ইনডেক্স করবে। এই সময় যেন আমাদের সাইটে কোন রকম কোন কিছুর ঘাটতি না থাকে তার পুরোপুরি সমাধান করাকেই (Technical SEO) টেকনিক্যাল এস ই ও বলে।

টেকনিক্যাল এস ই ও কেন দরকার? Why Technical SEO Important?

আপনি একটা দোকানের কথা ভাবুন আপনি হয়তো শুনলেন ওখানে খুব ভালো মানের চা পাওয়া যায় দোকানের নাম বা কোন ব্যানার সেই রকম ই মনে করায়। তো সেখানে যেয়েই আপনি চায়ের অর্ডার দেবেন বিষয় কিন্তু তা না। আপনি সেখান কার পরিবেশ, দোকানদারের ব্যাবহার, চায়ের সাথে আর কি কি ব্যাবস্থা আছে এবং সেখানে দাম সহনীয় কিনা সব কিছু দেখে এর পর না অর্ডার দেবেন। স্বাদ বা আপনি ২য় বার যাবেন কিনা সেটার আগেই আপনি এতকিছু খেয়াল করলেন তাইনা?

ঠিক একি ভাবে সার্চ ইঞ্জিনের রোবট এসে সব কিছু দেখেই না আপনাকে র‍্যাঙ্ক দিবে যাতে আপনার সাইটে এসে কেউ প্রতারিত না হন। তাই টেকনিক্যাল এস ই ও ছাড়া র‍্যাংক অসম্ভব। অন পেজ এবং অফ পেজ এর পাশাপাশি টেকনিক্যাল এস ই ও খুবই জরুরী।

আমরা আসুন দেখি একটা ওয়েব সাইটের কি কি বিষয়গুলি অপটিমাইজেশন করা জরুরী বা টেকনিক্যাল এস ই ও’র মধ্যে পড়ে।

১। Site design (সাইট ডিজাইন)ঃ প্রথমত বলা হয় আগে দর্শনধারী পরে গুন বিচারি। আপনার ওয়েব সাইট যদি সুন্দর না হয় বা সাজানো যদি ভিজিটরদের ভালো না লাগে ট্রাফিক সাইটে এসে ফিরে যাবে তাই সাইটের ডিজাইন খুব প্রয়োজনীয় একটা বিষয়।

২।Crawling (ক্রলিং)ঃ ওয়েব সাইট এ সার্চ ইঞ্জিনের বোট ঠিক ঠাক মতো আসতে পারছে কিনা তার দিকে নজর রাখা খুব জরুরী। সাইট এত সুন্দর করে সাজালেন অথচ রোবট আসতে পারছে না আপনার সাইটে সার্চ ইঞ্জিন তো আপনার সাইট চিনবেই না র‍্যাঙ্ক কিভাবে দিবে? তাই এটার দিকে নজর রাখতে হবে।

৩। Indexing (ইন্ডেক্সিং)ঃ আপনি আপনার ওয়েবসাইট পাবলিশ করার পর তা সার্চ ইঞ্জিন এ সময়মত ইন্ডেক্সিং হচ্ছে কিনা আপনার সাইট গুগলে সার্চ করলে বা অন্যান্য আর্টিকেল লিঙ্ক ধরে সার্চ করলে আসছে কিনা তা পরীক্ষা করতে হবে।

৪। Mobile friendly (মোবাইল ফ্রেন্ডলী)ঃ বর্তমানে ৬০% এর অধিক ট্রাফিক মোবাইল থেকে ব্রাউজ করে তাই আপনার ওয়েব সাইট মোবাইল থেকে ওপেন করলে তা কেমন দেখায় কোন কিছুর ঘাটতি আছে কিনা তা চেক করা উচিৎ। যদি আপনার সাইট মোবাইল ফ্রেন্ডলী না হয় আপনি প্রায় ৬০% ট্রাফিক হারাবেন বলে ধরে নেয়া যায়।

৫। Error fixing (ইরোর ফিক্সিং)ঃ সাইটের অনেকগুলি ইরোর আসতে পারে সার্ভার ও থিমের কারনে আবার আপনি কোন একটা ইনডেক্স হওয়া আর্টিকেল ডিলিট করে দিয়েছেন বা হয়ে গেছে তখন ৪০৪ ইরোর আসবে যেটা সাইটে বাউন্স রেট বাড়াবে যা খুবই মারাত্মক ক্ষতিকর।  এছাড়াও ৫০৩,৩০৩সহ অনেক ইরোর আছে এইগুলির দিকে খুব নজর দিতে হবে।

ওয়েব সাইটের কি কি বিষয়গুলি অপটিমাইজেশন করা জরুরী

৬। Load speed (সাইটের লোড স্পীড)ঃ আপনার ওয়েবসাইটের সবকিছু সুন্দর এবং ঠিকঠাক আছে। এখন আপনার ওয়েব সাইট লোড নিতে অনেক সময় নিচ্ছে ট্রাফিক বিরক্ত হয়ে চলে যাবে বাউন্স রেট বেড়ে যাবে ৯৯% পর্যন্ত ট্রাফিক চলে যেতে পারে শুধুমাত্র লোড স্পীডের কারণে।

৭। Duplicate indexing (ডুপ্লিকেট ইনডেক্সিং)ঃ  একি টাইটেল, ট্যাগ, কি-ওয়ার্ড দিয়ে একাধিক আর্টিকেল পোস্ট করার সময় এই ঘটনা ঘটতে পারে। এই বিষয়ে সচেতন থাকা জরুরী।

৮। Broken link (ব্রোকেন লিঙ্ক)ঃ ইরোর ফিক্সিং সম্পর্কে আমরা আগেই জেনেই মুলত ব্রোকেন লিংক ই এর জন্য দায়ী। হয়তো আপনি একটা আর্টিকেল পোস্ট করেছেন কোন কারণে তা ডিলিট করে দিয়েছেন বা হয়ে গেসে। এই লিঙ্ক এ গেলে তো কাজ করবে না। এটাই মূলত ব্রোকেন লিঙ্ক। এস ই ও র ক্ষেত্রে এটি নেগেটিভ ইমপ্যাক্ট আসে তাই ব্রোকেন লিঙ্ক ঠিক করতে হবে। এখন ১টা করে চেক করা অনেক সময় সাপেক্ষ তাই আপনি চাইলে অনলাইনে অনেক টুলস আছে যার মাধ্যমে অনেক সহযে ব্রোকেন লিঙ্ক চেক করতে পারবে।

৯। Google analytics (গুগল এনালাইটিক্স)ঃ এটি গুগলের একটি ফ্রি টুলস, সাইটের আপডেট ও ট্রাফিক কি রকম আসছে, ছেলে না মেয়ে, কোন দেশ, প্রতিদিন কতগুলি আসছে, এছাড়াও টেকনিক্যাল এস ই ও’র কি কি ভুল আছে এই সমস্ত তথ্য দিয়ে গুগল আপনাকে সাহায্য করবে তাই এটি আপনার সাইটে লাগানো ও ব্যাবহার জানা খুবই জরুরী।

১০। Site map (সাইট ম্যাপ)ঃ সাইট ম্যাপ মূলত সূচিপত্র যা আপনার সাইটের কোথায় কি আছে তা সাজানো থাকবে। সাইট ম্যাপ ছাড়া ইনডেক্সিং সম্ভব না। এটি আপনার সাইটে থাকা বাঞ্ছনীয়।

১১। Robots.txt ( রোবটস ফাইল)ঃ আপনার ওয়েবসাইটের কোন অংশ গুগলের কাছে যাবে কোন অংশ যাবেনা। কখন আপনি রোবট কে আপনার সাইট ভিজিট করার পারমিশন দিবেন তার সমস্ত কিছু নিয়ন্ত্রন করা হয়ে থাকে এখান থেকে। তাই এটির সঠিক ব্যাবহার জানা আপনার জন্য খুবই জরুরী।

১২। SSL certificate ( এস এস এল সার্টিফিকেট)ঃ আপনার ওয়েবসাইট টি ব্যাবহারকারীর জন্য সুরক্ষা নিশ্চিত করে কিনা তারা আপনার সাইটে এসে সুরক্ষিত কিনা নাকি আপনার ট্রাফিকের ডাটা চুরি করছেন এই নিশ্চয়তা প্রদান করে ()। এর অর্থ হলো ।

১৩। URL structure: একটি আর্টিকেলের পার্মালিঙ্ক অবশ্যই ইউজার ফ্রেন্ডলি হওয়া অবশ্যক। অনেক সাইটে দেখা যায় লিংকে তারিখ, নাম্বার থাকে যা এস ই ও ফ্রেন্ডলি নয়। সাধারণত এটি পোস্ট নামের সাথে হওয়া উচিৎ।

১৪। থিন কন্টেন্ট (Thin content)ঃ একটা ওয়েব সাইটে আর্টিকেল এর পরিমাণ কম থাকাকেই থিন কন্টেন্ট বলে। সাইটে আর্টিকেল কম থাকে গুগলসহ অন্যান্য সার্চ ইঞ্জিন ভালো চোখে দেখে না তাই বেশী বেশী পোস্ট করুন ভিজিটর ও সার্চ ইঞ্জিনকে খুশী রাখুন।  প্রয়োজনে একটি নির্দিস্ট সংখ্যক আর্টিকেল সাইটে থাকার পর ইন্ডেক্স করান।

১৫। Canonical issues: ক্যানোনিকাল সমস্যাগুলি সাধারণত দেখা যায় যখন একটি ওয়েবসাইটের একাধিক ইউআরএল থাকে যা একই বা অভিন্ন কন্টেন্ট প্রদর্শন করে। সাধারণত ই-কমার্স সাইটগুলিতে এই সমস্যা অনেক বেশী, আবার অনেকে ইচ্ছে করে এটা করে থাকে সেল পাবার জন্য এটি ভালো প্র্যাকটিস নয়।

এই আর্টিকেলের মাধ্যমে টেকনিক্যাল এস ই ও ভালভাবে বোঝানোর চেস্টা করেছি। এটি এস ই ও’র জন্য খুবই গুরুত্বপুর্ণ । তাই এই বিষয়ে খুবই সচেতন থাকতে হবে। যদি আপনাদের কোন প্রশ্ন থাকে তাহলে কমেন্ট করে জানাবেন। আর ভালো লেগে থাকলে অবশ্যই শেয়ার করে বন্ধুদের জানার সুযোগ করে দেবেন।

Exit mobile version